সাম্প্রতিক কালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী’র ভাষণে নানা ভাবে পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ঘুরে ফিরে কখনও বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, আবার কখনও বাংলার মনীষীদের প্রসঙ্গ উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। রবিবার রেডিওতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ৭৪তম ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানেও বাংলার মানুষের ‘মন কি বাত’কে বিশেষ গুরুত্ব দিলেন!

প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‘কলকাতা থেকে রঞ্জনবাবু তাঁর চিঠিতে খুব সুন্দর করে মৌলিক প্রশ্ন তুলেছেন। আবার সেই প্রশ্নের জবাবও তিনি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।’’ এর পর প্রধানমন্ত্রী মোদী কলকাতার জনৈক রঞ্জনবাবুর পাঠানো চিঠিটি পড়তে শুরু করেন- ‘‘চিঠিতে উনি লিখেছেন, আমরা আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার কথা বলছি। কিন্তু আমাদের কাছে এর অর্থ কী? তার পর নিজেই তার জবাব দিয়ে লিখেছেন, আত্মনির্ভর ভারত অভিযান কেবল সরকারের কোনও নীতি নয়, এটা জাতীয় আবেগের বিষয়।’’ তার পর মোদী তাঁর স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিমায় বলেন, ‘‘উনি মনে করেন আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার মানে নিজের ভবিষ্যতের ও ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক নিজেই হয়ে ওঠা। রঞ্জনবাবুর এই কথা ষোল আনা ঠিক।’’

শুধু রঞ্জনবাবুই নন এদিনের মন কি বাত অনুষ্ঠানে উত্তর দিনাজপুরের এক ব্যক্তির কথাও তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘পানীয় জলের সঙ্কট মোকাবিলার বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর থেকে সুজিতজিও একটা ভাল মেসেজ পাঠিয়েছেন। উনি লিখেছেন, প্রকৃতি জল-রূপে আমাদের সবাইকে একটা অভিন্ন উপহার দিয়েছেন। তাই এই সম্পদকে রক্ষা করার সমষ্টিগত দায় রয়েছে আমাদের।’’

প্রসঙ্গত, এদিন ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জল সংরক্ষণের বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি দেশবাসীকে জল সংরক্ষণের বিষয়ে আরও দায়িত্ববান হতে বলেন। তিনি বলেন, ‘‘সামনেই গ্রীষ্মকাল। দেশবাসীকে জল সংরক্ষণের ব্যাপারে দায়িত্ববান হতে হবে। বৃষ্টির জল সংরক্ষণের জন্য খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক ‘ক্যাচ দ্যা রেন’ প্রকল্প আনতে চলেছে। জলাশয় পরিষ্কার করে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করার চেষ্টা করা হবে ওই প্রকল্পে।’’

এদিন ‘মন কি বাত’-এ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তামিলনাড়ুকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মোদী। বিজ্ঞান বিষয়ে বলতে গিয়ে বিজ্ঞানী সিভি রমনের নাম উল্লেখ করেন তিনি। যিনি ছিলেন তামিল।

প্রধানমন্ত্রী তামিল ভাষা না শিখতে পারাকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ বলে মনে করেন।

‘মন কি বাত’-এ বাংলা এবং তামিলনাড়ুকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়াকে অনেকে বলছেন, সামনেই বাংলা এবং তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচন। এই দুই রাজ্যেই বিজেপি পদ্মফুল ফোটাতে চাইছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর এদিনের ভাষণে এই দুই রাজ্য একটু বেশি গুরুত্ব পাবে সেটাই তো স্বাভাবিক।

অন্যদিকে গেরুয়া শিবির মনে করছে, কর্মসংস্থান, স্বনির্ভরতা, পরিকাঠামো উন্নয়ন, পানীয় জলের সমস্যার সমাধানের মতো বিষয়ে বাংলার বড় অংশের মানুষের মনে আগ্রহ রয়েছে। প্রধামনমন্ত্রী সচেতনভাবেই কৌশলে ওই সকল মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করলেন।