করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে। রজ্যে হুহু করে বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। এর মধ্যে নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলির বড় বড় জনসভা, রোডশো আরও দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন রাজ্যবামফ্রন্ট। বুধবার (১৪ এপ্রিল) আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সাংবাদিক সম্মেলন করে সিপিআইএম-এর পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, বাকি তিন দফা ভোটে কোনওরকম বড়সড় জমায়েত করবে না বামফ্রন্ট। এই সময় তারা নেটমাধ্যম ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারে জোর দেবে।

মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, চার দফায় ভোট হয়ে গিয়েছে। পঞ্চম দফার ভোট প্রচার শেষ লগ্নে, আগামী দফার নির্বাচনের প্রচারে বড়সড় ভিড় না করার। হইচই পাকানোর মতো কিছুই করা হবে না। বরং বৃহৎ প্রচারে না গিয়ে মানুষকে সচেতন করার ওপর জোর দেব আমরা।’’ এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘‘যেখানে ভোট হয়েছে, বা যেখানে ভোট হবে সেইসব জায়গায় একইভাবে গত এক বছর ধরে আমরা যে পরিস্থিতি মেনে সবাইকে সচেতন করা এবং অসহায় মানুষের কাছে যাওয়া, মানুষের হক নিয়ে লড়াই করা। রেশন ও খাদ্য পোঁছে দে‍ওয়ার মতো কাজ করব।’’

শেষ তিন দফায় মোট ১২২টি আসনে ভোট হবে। এই আসনে ভোটপ্রচারে বামফ্রন্টের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করবেন। এক্ষেত্রে যারা বাড়ি বাড়ি প্রচারে যাবেন তাঁদের মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেলিম আরও বলেন, ‘‘সৃজনশীল পদ্ধতির মাধ্যমে প্রচার করা হবে। ছোট ছোট পথসভার ওপর জোর দে‍ওয়া হবে। সামাজিক দূরত্ব মেনে, নেটমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে প্রচার করবেন প্রার্থীরা।’’

এদিন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের করোনা মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সরকার তো করোনা মোকাবিলা মানে একটাই জিনিস জানে, লকডাউন। এখনও লকডাউনের প্রভাব যায়নি। কর্মহীন মানুষের জ্বালা, মানুষের আকুতি ও যন্ত্রণা এখনও তাজা। মুখে কথা বলে অর্থনীতির কিছু হয়নি। কৃষি, বাজার, কলকারখানাকে সুরাহা দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা এখনও সরকার করেনি।’’