গত বুধবার (১৯‍ আগস্ট) তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছিল করোনা সামলানোর জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইউনাইটেড নেশন ওয়ার্ল্ড পিস অ্যাসোসিয়েশন’ (UNWPA) পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সম্মানিত করেছে।

বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল ট্যুইটার হ্যান্ডেল (@AITCofficial)  থেকে এই বিষয়টি জানিয়ে একটি পোস্ট করা হয়।

ট্যুইটারে এই পোস্টটির সঙ্গে একটি চিঠিও পোস্ট করা হয়। চিঠিটি জাপানের ‘ইউনাইটেড নেশন’ নামক সংস্থার তরফে রাজ্যের শ্রমদফতরের প্রতিমন্ত্রী ডা: নির্মল মাজিকে পাঠানো হয়েছে।

ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে, আমাদের প্রতিনিধির কাছ থেকে আপনার এবং আপানাদের সরকার সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা মানবদরদি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্কে‍ও জানতে পেরেছি। বর্তমান এই মহামারির পরিস্থিতিতে আপনাদের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের বিষয়েও আমরা ওয়াকিবহাল।

মন্ত্রী নির্মল মাজিকে পাঠানো এই চিঠিতে এক জায়গায় লেখা হয়েছে, আগামীতে আমরা নিশ্চয়ই ‘আপনার সাম্রাজ্যে’ পা রাখতে পারব।

এই চিঠিতে সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে তারা রাষ্ট্রসংঘ স্বীকৃত সংস্থা।

বিতর্ক শুরু হওয়ায় এই ট্যুইটটি এখন ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।

তবে ট্যুইটারে এই পোস্টের পর চিঠি নিয়ে নানা রকমের সমালোচনা উঠে এসেছে। বিশেষ করে এই চিঠিতে যেভাবে প্রশংসা করা হয়েছে তা নিয়ে এবং চিঠির ভাষা নিয়ে ট্যুইটারে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।

যেমন, রোহিত মিশ্র নামে একজন ট্যুইটারে ওই পোস্টটির নিচে লিখেছেন ‘‘কোভিড-১৯ ভালোভাবে সামলানোর জন্য শ্রমমন্ত্রীকে চিঠিটি কে লিখেছেন? এটি ‘ফেক’। এখনও মানুষ যদি এটা বিশ্বাস না করে তাহলে পৃথিবী সমান্তরাল।’’

আরেকজন ট্যুইটারে লেখেন, ‘‘এখানে ব্যাকরণগত প্রচুর ভুল রয়েছে…এটা ভেবে সত্যিই অবাক হচ্ছি এরকম একটি ভুলেভরা চিঠি ইউএন পাঠিয়েছে…এবং আমি যতদূর জানি কথাটি ‘ইউনাইটেড নেশনস’, ‘ইউনাইটেড নেশন’ নয়…’’

শাওন দত্ত বলে একজন ট্যুইট করে লিখেছেন, ‘‘এটা পড়ে আমার খুব হাস্যকর বলে মনে হয়েছে। আমার মনে হয় রাষ্ট্রসংঘকে এখন প্রাথমিক ইংরেজি প্রশিক্ষণের ক্লাস নেওয়া উচিত…’’।

যদিও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পরই পোস্টটি ট্যুইটার থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয়।

ইউনাইটেড নেশন ওয়ার্ল্ড পিস ‍অ্যাসোসিয়েশন কি রাষ্ট্রসংঘের (UN) সঙ্গে যুক্ত?

তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রীকে যে সংস্থা চিঠিটি লিখেছে, তাদের দাবি তারা সমাজ সেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ে তারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে থাকে। এছাড়াও দারিদ্রতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসংক্রান্ত বিষয় নিয়েও তারা কাজ করে।

ভারতে এই সংস্থার একজন প্রতিনিধি হলেন হুগলীর শ্রীরামপুরের বাসিন্দা প্রিয়া দত্ত ওরফে পিঙ্কি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রিয়া দত্ত একটি পোস্টে জানিয়েছেন গত মাসে UNWPA তাকে ভারতে দূত হিসেবে নিয়োগ করেছে।

প্রিয়া দত্ত বলেন তিনি একজন সমাজকর্মী। তিনি একটি এনজিও চালান। গতবছর পর্যন্ত তিনি ‘গ্রাসরুট সোশ্যাল মিডিয়া কমিউনিটি’ (GSMC) চালাতেন। যার মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচার চালানো হত। প্রিয়া নিজেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একজন সমর্থক হিসেবে দাবি করেন। ইন্ডিয়া টুডে’কে প্রিয়া বলেন, মন্ত্রী নির্মল মাজির সঙ্গে তাঁর খুব ভাল সম্পর্ক। নির্মল বাবু তাঁকে বিভিন্ন সময় তাঁর এনজিও’র কাজে সাহায্য করেছেন, বিশেষত গরীব মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে।

নির্মল মাজির সঙ্গে প্রিয়া দত্ত।

তথ্যসূত্র ইন্ডিয়া টুডে।