কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ পর্যবেক্ষক দলের দেওয়া একটি রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে মহারা্ষ্ট্রের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, মহারাষ্ট্রে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ শুরু হয়ে গেছে।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি মূলত প্রকাশ্যে আসে। আসতে আসতে চিন এবং পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। যাই হোক ২০২০ সাল গোটা পৃথিবীর মতো ভারতবর্ষের মানুষ করোনা মহামারির আতঙ্কে দিন কাটিয়েছে। বছরের বেশিরভাগ সময়টাই মানুষকে ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হয়েছে। এখন ফের করোনা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে।

বুধবার (১৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারতে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের রুখতেই হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কোনও মতেই পরিস্থিতি হালকা করে দেখলে চলবে না। কারণ, যদি এখনই এই বৃদ্ধি না থামানো যায় তাহলে ফের তা দেশজুড়ে অতিমারির আকার নেবে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাস থাকা ভাল। কিন্তু সেটা যেন অতিরিক্ত না হয়ে যায়।’’ সংক্রমণ রুখতে আরও বেশী করে নমুনা পরীক্ষার দিকে জোর দিতে বলেছেন মোদী। এদিনের বৈঠকে ছিলেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল।

দেশে গত ছ’দিনে দৈনিক সংক্রমণ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৪,৪৯২ জন। এর মধ্যে ১৫,০০০ এর বেশী জন আক্রান্ত হয়েছেন মহারাষ্ট্রে।কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ পর্যবেক্ষক দলের দেওয়া একটি রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে মহারা্ষ্ট্রের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, মহারাষ্ট্রে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ শুরু হয়ে গেছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিহ্নিত করা, পরীক্ষা করা এবং পৃথক করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের গাফিলতি ছিল। মহারাষ্ট্র সরকারকে করোনা বিধি সঠিকভাবে পালনের জন্য কেন্দ্রের তরফে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর পরই মহারাষ্ট্রের নানা প্রান্তে লাগু হয়েছে করোনা বিধি। অফিস, বাজার, সিনেমা হল, শপিং মল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও জনসমাগমের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে লাগু করা হয়েছে করোনা বিধি। রাজ্য সরকারের নিয়ম লঙ্ঘন করলে দিতে হবে জরিমানা।

শুধু মহারাষ্ট্রেই নয় মধ্যপ্রদেশের ভোপালেও জারি করা হয়েছে রাত-কার্ফু।

দেশের কোথায় কোথায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করার জন্য লকডাউন এবং রাত-কার্ফু জারি করা হয়েছে, এক নজরে দেখে নিই-

নাগপুর: ১৫-২১ মার্চ পর্যন্ত লকডাউন জারি করা হয়েছে। এই সময় কেবলমাত্র অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

পুণে: নতুন করে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পুণেতে রাত ১১টা থেকে পরেরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত রাত-কার্ফু জারি থাকবে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। হোটেল, বার এবং সিনেমা হলগুলি রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকছে।

নাসিক: সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরের দিন সকাল ৭টা পর্যন্ত রাত-কার্ফু জারি করা হয়েছে। বিয়ে বা অন্য কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে ২৫-৩০ জনের বেশি জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ১৫ মার্চের পর থেকে সব অনুষ্ঠানগৃহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি‍ও হোটেলগুলি সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকছে, তবে হোটেলগুলিতে যত আসন সংখ্যা তাঁর ৫০ শতাংশ আসন ফাকা রাখতে হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রয়েছে। ধর্মীয়স্থানগুলি শনিবার এবং রবিবার বন্ধ রাখা হচ্ছে।

উত্তরাখন্ড: মুসৌরি-সহ বেশ কিছু অঞ্চলে সম্পূর্ণভাবে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। মসৌরির বেশ কয়েকটি এলাকাকে কনটেন্টমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

পাঞ্জাব: পাটিয়ালা, লুধিয়ানা, মোহালি এবং ফতেঘর সাহিবে রাত-কার্ফু জারি হয়েছে।

এদিকে, ১৫ মার্চ দেশে ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। যা এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ। এখনও পর্যন্ত দেশে মোট ৩,২৯,৪৭,৪৩২ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, দেশে টিকাকরণের গতি অনেকটাই বেড়েছে এবং আগামী দিনে আরও বেশি টিকাকরণ হবে।