সরোজ খান (২২.১১.১৯৪৮-০৩.০৭.২০২০)

পাশ্চাত্যের নৃত্যশৈলীর রমরমার সময়ে প্রাচ্যের ছোঁয়া নিয়ে এসেছিলেন সরোজ খান। তাতে বলিউডি অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে জুড়ে দিতেন ধ্রুপদী ভঙ্গিমা। কাঠ কাঠ ডিস্কো ও বিদেশি রক এন্ড রোলের সঙ্গে শুরু হল নায়ক নায়িকার সিগ্নেচার মুদ্রা, শৈলী।

সরোজ খানের কেরিয়ার শুরু হয়েছিল ১৯৭৪ সালে ‘গীতা মেরে নাম’ ছবি দিয়ে  কিন্তু খ্যাতির জগতে পা রেখেছিলেন ১৯৮৭ সালে ‘মি ইন্ডিয়া’ ছবির মধ্য দিয়ে। শ্রীদেবীর লাস্যময়ী নাচ, আলোড়ন তুলেছিল আসমুদ্রহিমাচল। ‘হাওয়া হাওয়াই’ গান ও নাচে অভিনব অভিব্যক্তি, কমেডির মিশেল অন্য মাত্রা দিয়েছিল সমগ্র দৃশ্যটিকে। তারপর মাধুরীর সঙ্গে তেজাব। এক দো তিন… আর থামতে হয়নি তাঁকে এবং মাধুরীকে। মাধুরী স্টার হয়ে গেলেন আর সরোজ খানের নাম জড়িয়ে রইল একের পর এক হিট গানে। মাধুরীর নাচে সরোজ খানের কোরিওগ্রাফি প্রাণ পেত। তবে  শুধু মাধুরী নন, তাঁর প্রশিক্ষণে অন্য নায়িকারাও কামাল করেছেন স্ক্রিনে। নাচ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নিয়ে চলতেন সরোজ আর তাবড় তাবড় নায়ক নায়িকাদের কাছ থেকে বের করে আনতেন সেরাটা। তাই তিনি ছিলেন সবার ‘মাস্টারজি’।

নির্মলা সাধু সিংহ কীভাবে মাস্টারজি সরোজ খান হয়ে উঠলেন সে গল্পও সিনেমার মতো। অনেকেই জানেন না যে তিনি অভিনয়ও করেছেন শৈশবে। তিন বছর বয়সে। সে ছবির নাম ‘নজরানা’। নেপথ্য নৃত্যশিল্পীর ভূমিকায়ও তাঁকে দেখা গেছে পর্দায় পঞ্চাশের দশকে। বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার বি সোহনলালের তত্ত্বাবধানে তাঁর নাচ শেখা শুরু, তারপর বিবাহিত সোহনলালের সঙ্গে প্রণয়, বিয়ে, ধর্মান্তরিত হওয়া, বিচ্ছেদ, সন্তানদের লালন করা। পরে সরোজ খান আবার বিয়ে করেন ব্যবসায়ী সর্দার রোশন খানকে।

সুদীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি কোরিওগ্রাফ করেছেন দু’হাজারের অধিক গানে। জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তিনবার, আরও অন্যান্য অনেক সম্মান তিনি অর্জন করেছেন কোরিওগ্রাফার হিসেবে। কোরিওগ্রাফারের অবদান বাণিজ্যিক ছবির সাফল্যে যে অনেকখানি তা সরোজ খান দেখিয়ে দিয়েছিলেন বারবার নিজের পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও মুন্সিয়ানা দিয়ে। মোটাসোটা চেহারার সাধারণ মেয়েটির এই যাত্রা সহজ ছিল না। নেপথ্য কারিগরও যে ‘স্টার’ হতে পারেন তা শিখিয়েছেন সরোজ খান।

আজ স্মরণ করছেন তাঁকে সমগ্র ইন্ডাস্ট্রি। টুইটে শোকবার্তা জানাচ্ছেন সকলে। সবার প্রিয় মাস্টারজি আজ ঘুঙুর ফেলে রেখে অনেক দূরে।