আয় আরো হাতে হাত রেখে

আয় আরো বেঁধে থাকি।।

একমাত্র কবিতাই বুঝি পারে এত সহজে মনের গভীর আকাঙ্খাকে প্রকাশ করতে। হৃদয়ের গভীর আকুতিকে তুলে ধরতে। কবিতাই বুঝি পারে ক্ষয়িষ্ণু এই সমাজের ‘গভীর-গভীরতর ‘অসুখ’কে সারিয়ে তুলতে। এই সমস্ত অনুষঙ্গেই বুঝি কবিতা গ্রন্থাগার গড়ে তোলার প্রাথমিক ভাবনা আর সেই ভাবনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল ৩০জুন ২০১৮, শনিবার, আইসিসিআর লাইব্রেরিতে। যার পোষাকি নাম- ‘ইন্টার কালচার পোয়েট্রি অ্যান্ড লাইব্রেরি’(আইপিপিএল)।

এডিনবরায় অবস্থিত স্কটিশ পোয়েট্রি লাইব্রেরির মডেলে অনুপ্রাণিত হয়ে গড়ে উঠেছে আমাদের শহরের একান্ত নিজস্ব এই কবিতা গ্রন্থাগার। শুধুমাত্র কলকাতায় নয়, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে সম্ভবত এই প্রথম। ‘সিটি অব জয়’-এর মুকুটে নতুন পালক। ভাষার প্রতিবন্ধকতাকে ভেঙে এই গ্রন্থাগারে থাকবে বিভিন্ন ভাষার কাব্য সঙ্কলন এবং ভিসুয়াল ও পারফর্মিং আর্টসের সংগ্রহ। এই কবিতা গ্রন্থাগারের উদ্বোধন করলেন আমাদের প্রিয়তম কবি, এই শহরের কবিতা-বিবেক শ্রী শঙ্খ ঘোষ। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য তিনিই এই কবিতা গ্রন্থাগারের সভাপতি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাসবী ফ্রেজার, পঙ্কজ সাহা, সংযুক্তা দাশগুপ্ত, গৌতম দে, শর্মিলা রায়, জয়দীপ ষড়ঙ্গী প্রমুখ। প্রকাশিত হল কবিতা গ্রন্থাগারের নিজস্ব পত্রিকার প্রথম সংখ্যা এবং ওয়েবসাইট।

ICCR

অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্রাবণা ভট্টাচার্য। রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতা নিয়ে পরিবেশিত হয় ‘মনের কোনে আলোকিত ক্ষণে’। পরিবেশনায় ছিলেন কেতকী দত্ত এবং সোনালী সরকার। শঙ্খ ঘোষের কবিতা আবৃত্তি করেন সুনঋতা দস্তিদার, সুতপা চৌধুরী এবং তানিয়া চক্রবর্তী।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ছিল মহাদেবী বর্মার কবিতা পাঠ এবং একেবারে শেষে কবিতা গ্রন্থাগারের মূলভাবনাকে তুলে ধরা হয় ‘এসো হাতধরি’ পরিবেশনার মাধ্যমে। যার ভাষ্য রচনা করেন শর্মিলা রায়। সবশেষে অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জয়দীপ ষড়ঙ্গী।