সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকার কেরামতি আমার বহুদিন ধরে দেখে এসেছি। ঊনবিংশ শতাব্দীতে এডওয়ার্ড জেনার গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কারের পর থেকেই এই পথ চলা শুরু। ইংল্যান্ডে ১৮৫৩ সালে গুটি বসন্তের টিকা বাধ্যতামূলক করা হয়, পরে অন্য দেশও টিকা চালু করে নানান ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় সেনাদের টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হয়, সেই কর্মসূচি সফল হওয়ার পর টিকা নিয়ে মানুষের ধ্যান ধারণা পাল্টে যায়। ফ্রান্সের পাস্তুর ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী কালমেটে এবং গুয়েরিন যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক হিসাবে  নিজেদের নামাঙ্কিত বিসিজি (ব্যসিলিয়স কালমেটে গুয়েরিন) টিকা আবিষ্কার করেন। ফ্রান্স, ডেনমার্ক, সুইডেন প্রভৃতি দেশে এর ব্যবহার শুরু হলেও ইংল্যান্ড, আমেরিকা নানান স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এই টিকার প্রয়োগ করেনি। স্বাধীনতার পর ভারতেও টিকাকে ভারত স্বার্থ বিরোধী বলা হয়েছে। তবু নানান বাধা বিপত্তি, স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে গত শতাব্দীর মধ্যভাগে জোনাস সল্ক আবিষ্কৃত পোলিও টিকা এবং ইদানীং কালের ডিএনএ টিকা মানুষের রোগভোগের যন্ত্রণা অনেকটাই লাঘব করেছে। সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল করতে সারা দুনিয়া আজ টিকার ওপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল। করোনা মহামারি নতুন করে টিকার গুরুত্ব বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে বড় বড় ওষুধ কোম্পানীগুলি স্বার্থও ধরা পড়ছে। ২০০০ সালে সারা পৃথিবীতে টিকার বাজার ছিল মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার, সেটা ২০১৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ বিলিয়ন ডলারে, কোভিড-এর ফলে এটা ১০০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা।

এই মুহূর্তে সারা ইউরোপ, আমেরিকায় কোভিড-১৯ নতুন করে নাড়া দিলেও  ভারতে করোনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। গত ৯ই জানুয়ারি, ২০২১ করোনায় জর্জরিত দশটি দেশের খবর নীচের টেবিলে রয়েছে। সক্রিয় সংক্রমণের সংখ্যা যেখানে আমেরিকায় প্রায় ১ কোটি, সেখানে আমাদের দেশে ২ লক্ষ ২৪ হাজার। করোনা পরীক্ষা, প্রতি দশ লক্ষে মৃত্যুর নিরিখে আমরা যথেষ্ট নিরাপদে। ভারতে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ এখন কেরলে (কেরল মডেল বলে যে উচ্ছ্বাস ছিল তা আজ স্তিমিত)। তারপর মহারাষ্ট্রে, অন্যরা অনেক নীচে। বাংলায় সংখ্যাটা দশ হাজারের নীচে।

ভারতে শুধু করোনা কমেই নি, গোষ্ঠী অনাক্রম্যতা শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক নিযুক্ত জাতীয় সুপার মডেল কমিটি জানাচ্ছে, দেশে প্রতি ১০০ জন সংক্রমিতের মধ্যে প্রায় ৯০ জন উপসর্গহীনভাবে সংক্রমিত। এই হিসেব সত্যি হলে দেশে করোনা ছড়িয়েছে ৯০ কোটির বেশি মানুষের মধ্যে অর্থাৎ সত্তর শতাংশ মানুষের কাছে। যেকোনও সংক্রামক রোগ সমাজের অর্ধেকের বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে, বাকিরা সেই রোগের থেকে সুরক্ষা পেয়ে থাকেন, তাকে ‘herd immunity’  বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বলা হয়।

টেবিল ১ করোনা পরিস্থিতি বিশ্বের দশটি দেশে

টেবিল ২ ভারতের কিছু রাজ্যে করোনার সক্রিয় সংক্রমণ ( ১০ ই জানুয়ারী ২০২০)

গোষ্ঠী অনাক্রম্যতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হলে‍ও করোনা ভাইরাসকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করতে টিকা’র প্রয়োজন। টিকার মাধ্যমে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি বা কোনও বিশেষ পদার্থ প্রবেশের জেরে যে প্রতিক্রিয়া হয় তা ভাইরাসকে ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করে। টিকা একটি প্রত্যক্ষ সুরক্ষা ব্যবস্থা। অধিকাংশ সংক্রামক রোগে (যেমন মিসেলস বা হাম, মাম্পস, পোলিও, চিকেন পক্স) নির্দিষ্ট ডোজে টিকা নিলে জীবন ভর সুরক্ষা পাওয়া যায়। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস প্রতিনিয়ত তার রূপ পাল্টায়। ফলে এ ক্ষেত্রে একবারের নির্দিষ্ট টিকা নিলে জীবনভর সুরক্ষা পাওয়া যাবে না।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকার সাথে অংশীদারিত্ব রেখে কোভিশিল্ড টিকা প্রস্তুত করেছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) সহযোগিতায় ভারত বায়োটেক কোভ্যাক্সিন তৈরী করছে। ইতিমধ্যে এরা অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে এবং পেয়েছে। কোভাক্সিনকে বাজারে ছাড়তে গেলে তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে হবে। ইতিমধ্যেই ভারত সরকার কোভিশিল্ড দিয়েই টিকাকরণের কাজ শুরু করেছে। তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় সফল হলেই  কোভ্যাক্সিন ব্যবহৃত হবে। কোভিশিল্ড রাতারাতি পাওয়া যাবে না, তাই কোনও কারণে সংক্রমণ বাড়লে কোভ্যাক্সিন প্রস্তুত থাকছে। ১৯৮৭ সালে ভারত আমেরিকার মধ্যে স্বাক্ষরিত টিকা কার্যক্রম পরিকল্পনা চুক্তির রজত জয়ন্তী বর্ষে, ভারত বায়োটেক সংস্থা ডায়রিয়া রোগের প্রতিষেধক রোটাভাইরাস ভ্যাকসিন তৈরী করে। বাচ্চাদের ডায়রিয়া রোগ সারাতে এটি এখন বিশ্ব জুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অন্যান্য যেসব টিকা প্রস্তুতকারী সংস্থা নিরাপত্তা জনিত এবং কার্যকারিতা পরীক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে আছে তাদের মধ্যে রয়েছে-

(১) আমেদাবাদ ভিত্তিক সংস্থা জাইদুস-ক্যাডিলা দ্বারা প্রস্তুত জাইকোভিড-ই।

(২) ভারতের প্রথম প্রাইভেট ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সংস্থা হায়দরাবাদ ভিত্তিক বায়োলজিক্যাল ই লিমিটেড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র’র ডায়নাভক্স এবং বেলর কলেজ অফ মেডিসিনের সহযোগিতায় তৈরি টিকা ।

(৩) ভারতের প্রথম এমআরএনএ টিকা, এইচজিসিও১৯, যা পুনের ওষুধ প্রস্ততকারী সংস্থা জেনোভা তৈরী করছে। তারা আমেরিকার সিয়াটল শহরের এইচডিটি বায়োটেক কর্পোরেশনের সহযোগিতায় করোনার টিকা তৈরী করছে।

(৪) ভারত বায়োটেকের একটি টিকা।

(৫) রাশিয়ার গামালিয়া ন্যাশনাল সেন্টার দ্বারা আবিষ্কৃত স্পুটনিক ভি টিকা ভারতে প্রস্তুত করছে ডঃ রেড্ডিস ল্যাব।

(৬) সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া এবং আমেরিকান ভ্যাকসিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি নোভাক্স-এর সাথে করোনার আরেকটি টিকা তৈরি করছে।

এই মোট আটটি টিকার মধ্যে চারটি সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত বলা দরকার, বিশ্বের বৃহত্তম টিকা নির্মাতা সংস্থা সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। এরা এবং ভারত বায়োটেক একত্রে  মাসে সাড়ে ছয় কোটি ডোজ তৈরী করতে পারে। এই সংস্থাগুলি জানিয়েছে ভারতে টিকার উপাদান বেশ “ভাল মজুদ” রয়েছে, তাই অনুমোদন পেলেই তাদের টিকা হিসাবে রূপান্তর করতে সময় লাগবে না।

একুশের জানুয়ারি থেকে আগস্টের শুরু পর্যন্ত  প্রায় ৩ কোটি ভারতীয়কে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য মাত্রা নেওয়া হয়েছে। আনুমানিক ১ কোটি স্বাস্থ্য কর্মী দিয়ে শুরু হয়েছে, এর পরে পুলিশ কর্মী, সেনা জওয়ান, পৌরসভা এবং অন্যান্য ‘ফ্রন্ট লাইন’এর কর্মীরা টিকা পাবেন। পরবর্তী ধাপে ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি এবং অন্য যারা নানান কোমরবিডিটি (সহ অসুস্থতা) নিয়ে আছেন, তারা পাবেন।

প্রতি বছর ১২টি রোগের বিরুদ্ধে ৪ কোটিরও বেশি নবজাতক এবং গর্ভবতী নারীকে টিকা প্রতিষেধক দেওয়া হয়। এই টিকা মজুদ এবং ট্র্যাক করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী ইলেকট্রনিক সিস্টেম আছে। এই মুহূর্তে ভারতে বিশ্বের বৃহত্তম টিকাদান কর্মসূচি চলছে। এই কর্মসূচিতে দেশের দু লক্ষ ২৩হাজার প্রশিক্ষিত নার্সের মধ্যে দেড় লক্ষ জনকে করোনার টিকা দেওয়ার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও চূড়ান্ত বর্ষের নার্সিং ছাত্র ছাত্রীদেরও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

টিকা মজুদ করার জন্য দেশের ঊনত্রিশ হাজার কোল্ডস্টোরেজ ব্যবহার করা হচ্ছে, এই টিকা মজুত করতে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ফ্রিজ লাগবে। কিছু টিকা মজুত করতে -৮০ ডিগ্রির ফ্রিজ দরকার যেটা কেবল হরিয়ানা, কর্ণাটক এবং পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু কৃষি ও পশুপালন গবেষণা কেন্দ্রে রয়েছে, প্রয়োজনে এগুলি‍ও ব্যবহৃত হবে। টিকা দানের জন্য আদর্শ অপারেটিং পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছে। ১০০ কোটি মানুষ যদি সুষ্ঠভাবে ভোট দিতে পারেন, টিকা দেওয়া বা নেওয়ার অসুবিধা কোথায়? এটা এখন দেশের কাছে বড় চালেঞ্জ।

করোনা ভ্যাকসিন ও অর্থনীতি

সিরাম ইনস্টিটিউট ভারত সরকারের কাছে প্রতি ডোজের জন্য ২২০ টাকা চাইছে, এতে ১৩০ কোটি ভারতীয়কে দু’ডোজের টিকা দিতে খরচ হবে ৫৭,২০০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে পরিবহন, পরিকাঠামো আর আনুসঙ্গিক খরচ। হিসেব বলছে, সেটা হবে প্রায় ৩০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার (অর্থাৎ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা)। কোভিড-১৯ এবং লকডাউনে অর্থনীতি বিপর্যস্ত, এই বিপর্যয় থেকে দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থা রক্ষা করতে ২০ লক্ষ কোটি টাকার আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্প ঘোষিত হয়েছে। এই অবস্থায় টিকার খরচ সরকারি কোষাগারে যথেষ্ট চাপ ফেলবে। তবে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন সিরাম ইন্সটিটিউটকে ৫ কোটি ভ্যাকসিনের খরচ দেবে।

হু-এর নেতৃত্বাধীন কোভ্যাক্স গ্লোবাল ভ্যাকসিন শেয়ারিং স্কিম থেকে ভারতে সাহায্য আসবে। তবুও প্রথম পর্যায়ে টিকার জন্য ভারতের প্রয়োজন হবে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন থেকে ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকা)। এটা কেন্দ্রীয় সরকারের উপর বাড়তি আর্থিক বোঝা। ২০২০-২১ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ভারতের মোট বাজেট ৬৭,১১১.৮ কোটি টাকা। ২০২০ অর্থিক বছরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়গুলির জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমান ৬৪,৫৫৯.১২ কোটি টাকা হলেও সরকার মোট ৬৪,৬০৯ কোটি টাকা খরচ করেছে। এখন দেখার কোথা থেকে এই বাড়তি ৫৭,২০০ কোটি টাকার জোগান আসে। বিশ্ব ব্যাঙ্ক  বিশ্বের নিম্ন আর মধ্য আয়ের দেশগুলির জন্য ১২ বিলিয়ন ডলার খরচ করছে, তার মধ্যে ভারত পাবে ১ বিলিয়ন অর্থাৎ প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা।

দেশে মধ্য ও উচ্চ বিত্ত মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। এরা যদি সংখ্যায় ২৫ কোটি হয় এবং এদের কাছ থেকে যদি প্রতি ডোজ ভ্যাকসিনের জন্য ৫০০ টাকা নেওয়া হয়, তাহলে এখান থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা আসবে। সিরাম ইনস্টিটিউট বেসরকারি ভাবে প্রতি ডোজ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়  বেচতে চায়, বোঝাই  যাচ্ছে প্রথম পর্যায়ের পর যাদের সম্বল আছে তারাই টিকা কিনে লাগাবেন, এটাই ভাবনা।

তবে নভেম্বরে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহার প্রকাশ করার সময় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যদি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরে আসে তাহলে বিহারের প্রতিটি ব্যক্তিকে বিনামূল্যে কোভিড-১৯-এর টিকা প্রদান করা হবে। বিজেপি-জেডিইউ জোট ক্ষমতায় এসেছে এবং এখন তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে বলে আশা করা যায়। সেই দায়িত্ব অন্য রাজ্যেও এসে পড়বে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী প্রথম পর্যায়ে সবাইকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে বলে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রকে চিঠি লিখেছেন।

টিকা তহবিলের আরেকটি বড় উৎস হতে পারে কর্পোরেট সেক্টর। ইতিমধ্যে টিকা সংক্রান্ত ব্যাপারে কর্পোরেট ভাবনা প্রকাশ্যে এসেছে। কোম্পানিগুলো তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (সিএসআর) ব্যবহার করে তাদের কর্মীদের টিকা দেওয়ার অনুমতি চেয়েছে। টিকা তহবিলের পুরোটাই সিএসআর তহবিল থেকে আসলে দেশে এক অনন্য নজির সৃষ্টি হবে।

করোনা ভ্যাকসিন ও কূটনীতি

দেশের বাইরে আফগানিস্তান, ভুটান, নেপাল, বাংলাদেশ, মরিশাস, সেচেলিশ, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা- এই আটটি দেশকে মোট এক কোটি করোনার ভ্যাকসিন ভারত পাঠাবে বলে জানিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশকে ২০ লক্ষ ডোজ  টিকা বেশি কার্যকরী। ফলে, চিনের মিত্র এবং আমাদের মিত্র হতে না চাওয়া পাকিস্তানও আমাদের টিকা নিতে আগ্রহী। ভারত গ্লোবাল অ্যালাইন্স ফর ভ্যাক্সিনাইজেশন এন্ড এমুনাইজেসন (GAVI) এ টিকা গবেষণা ও অনুন্নত দেশে টিকা সরবরাহের বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ। এসব আমাদের করতেই হবে। তাছাড়া, বন্ধু দেশের টিকা দিয়ে বোঝানো যাবে, করোনা তৈরি  করল চিন, আর প্রতিষেধক দিল ভারত। এটা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের সম্মান যে অনেকটাই বাড়বে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সুরক্ষা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হবার পথে এগোতে ভারতের বন্ধু দেশের প্রয়োজন। টিকা একটা সুযোগ।