কলকাতার এক বাঙালি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ভেনেজুয়েলা থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় অপরিশোধিত তেল বোঝাই জাহাজ নিয়ে যাওয়ার পথে গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। এই মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের পরিবারের সদস্যরা এবং সহকর্মীরা এর পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করছেন।

সম্বিত মজুমদার নামের মাঝবয়সী এই বাঙালির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে প্রায় দু’দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। লাইবেরিয়ান-ফ্ল্যাগ ভেসেল ‘এমটি সেরেঙ্গেটি’তে তিনি কর্মরত ছিলেন। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তিনি কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওনা দেন।

দক্ষিণ কলকাতায় এই মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের পরিবার থাকে। ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) জাহাজ সংস্থার তরফে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার খবর পরিবারকে জানানো হয়।

সম্বিত মজুমদারের এক সহকর্মী জানান, ‘‘সম্বিতের শরীর, মন দুটোই ভাল ছিল। সে খুশি ছিল কারণ, তাঁর ছেলে পরীক্ষায় ভাল ফল করেছিল।’’

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এই ব্যক্তি আরও জানিয়েছেন, জাহাজ সংস্থার তরফে যেটা জানানো হয়েছে তাতে সম্বিত আত্মহত্যা করেছে বলে ইঙ্গিত দেয়। সম্বিতের এই সহকর্মী’র মতে ‘‘কোম্পানিকে যাতে কোনওরকম ক্ষতিপূরণ না দিতে হয় তারজন্যই এই ধরণের আত্মহত্যার তথ্য খাড়া করা হচ্ছে। যার কোনও বাস্তবতা নেই।’’

তিনি আরও বলেন, সম্বিত আত্মহত্যাও করেনি বা কোনওরকম অসুখেও তাঁর মৃত্যু হয়নি। ভারত সরকারের কোনও গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টির তদন্তভার নিলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাজ সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত পর্যন্ত সবকিছুই ঠিক ছিল। সম্বিত তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে রাত ৮টা নাগাদ খাবার খেয়ে নিজের কেবিনে চলে যান। কিন্তু পরদিন সকালে তাঁকে আর খাবার টেবিলে দেখা যায়নি। জাহাজের কর্মীরাও তাঁকে কেবিনে খুঁজে পাননি।

সম্বিত মজুমদারের পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, ‘‘এখনও কোনও সদর্থক খবর নেই। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দফতরকেই বিষয়টি জানিয়েছি এমন কি স্থানীয় থানায়ও অভিযোগ জানিয়েছি। আমরা অনুরোধ করেছি যাতে সবরকম প্রোটোকল মেনে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। আমরা সন্দেহ করছি গোটা ঘটনার পিছনে বড় ধরণের কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে।’’

নেতাজীনগর থানায় পরিবারের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়ছে।

জাহাজ সংস্থার আধিকারিকরা যেভাবে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তাতে সম্বিত মজুমদারের স্ত্রী অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন।

সম্বিতের পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, ‘‘সম্বিত কিভাবে নিখোঁজ হয়েছেন সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনওরকম তথ্য নেই। আমরা একটা ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছি।’’ তাঁরা জানিয়েছেন, ওই জাহাজে অনেক পাকিস্তানি কর্মরত রয়েছেন। জাহাজে কর্মরত ভারতীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মনে হয়ছে কোনও বিষয়ে মতবিরোধ হওয়ায় পাকিস্তানিরা সম্বিতকে খুন করে গভীর সমুদ্রে ফেলে দিয়েছে।

জাহাজ সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, সম্বিতের দেহ পাওয়া যাওয়ার পর তারা উপযুক্ত ব্যবস্থাগ্রহণ করবে। হংকং এবং ফিলিপাইনস-এ সামুদ্রিক উদ্ধারকারীদের সঙ্গে সংযোগকারী সংস্থাকে তারা বিষয়টি জানিয়েছে।

৩৫দিন পর ইতিমধ্যেই জাহাজটি দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছচ্ছে। তবে এখনও সম্বিত মজুমদারের কোনও খোঁজ মেলেনি।

কৃতজ্ঞতা- Eastern Link