চতুর্থবারের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করলেন শেখ হাসিনা। সোমবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শেখ হাসিনাকে শপথ পাঠ করান সে দেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের একাদশতম সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন হাসিনা। এরপর ২০০৯ সাল এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সোমবারই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার ২৪জন মন্ত্রী, ১৯জন প্রতিমন্ত্রী ‍ও তিনজন উপমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

বাংলাদেশের নবগঠিত এই মন্ত্রিসভার ২৭জন সদস্যই নতুন। টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিয়েছে বেশ কিছু প্রবীণ নেতাদের। আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরীর মতো প্রবীণ নেতারা এবারের মন্ত্রিসভায় ঠাই পাননি।

‘পারফরমেন্স’ খারাপ হলেই যে কারোর চাকরি যেকোনও সময় চলে যেতে পারে। শেখ হাসিনা সহকর্মীদের বেশি সুযোগ দেন বলে একটা কথা বাংলাদেশে চালু আছে। এবার মনে হয় তিনি কাউকে বেশি ভুল করার সুযোগ দেবেন না। সে কারণে মন্ত্রী হতে আগ্রহী অপেক্ষাকৃত কম বয়সীরা হতাশ হবেন না।

বাংলাদেশের প্রবীণ সাংবাদিক গাজী নাসিরুদ্দিন খোকন নবগঠিত এই মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে বলেন- শেখ হাসিনার নতুন মন্ত্রিসভার তিনটি বড় বৈশিষ্ট্য আমার চোখে পড়েছে। ১. তিনি বুড়োদের এবং বেশি বিতর্কিতদের এবার ঝেড়ে ফেলেছেন। ২. শরিক রাজনৈতিক দলগুলি থেকে কাউকেই নেননি। মন্ত্রিসভায় সেই অর্থে আর বামপন্থি কেউ থাকলেন না। ৩. আত্মীয়দের থেকে তিনি এবার পুরোপুরি মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন। প্রায় অর্ধেক জেলা মন্ত্রিশুন্য থাকছে, তাতে আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ণ হতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দীপুমনিকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ভাল। তাঁর ডেপুটি হিসেবে নওফেল’কে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তটিও যথেষ্ট কার্যকরী হবে বলে মনে হয়। বাংলাদেশে শিক্ষায় বড় ধরনের গুনগত পরিবর্তন দরকার। দুজনেরই বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি আছে। দীপুমনির দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে। শিক্ষার খোলনলচে বদলে ফেলার উদ্যোগ দুজনেই নেবেন বলে আশা করি। তবে স্বাস্থ্যে আরও ভাল বিকল্প খোঁজা যেতে পারত। কেউ কূটনীতিবিদ হলেই যে ভাল বিদেশমন্ত্রী হবেন সেটা ঠিক নয়। ড. মোমেনের তাও কথাবার্তায় সংযত হওয়া উচিত। নতুন খাদ্যমন্ত্রী নিজে চাল ব্যবসায়ী। সে ক্ষেত্রে নিজের ব্যবসায়িক সত্ত্বার সঙ্গে মন্ত্রিত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সংঘাত কিভাবে এড়াবেন তার কোনও ব্যাখ্যা ভবিষ্যতে তিনি দেবেন কিনা আমরা জানি না। আমার মতে, শুধু মেগা প্রজেক্টগুলির জন্য পৃথক একটি মন্ত্রকের দরকার এবং সেখানে একজন পূর্ণ মন্ত্রী থাকা প্রয়োজন। জনপ্রশাসনে ব্যাপক সংস্কার দরকার। সেখানে উপযুক্ত কাউকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা উচিত ছিল। আশা করছি পরিকল্পনামন্ত্রী ভাল কাজ করবেন। কিন্তু নতুন অর্থমন্ত্রীকে তার অতীতের ছায়া থেকে সরে আসতে হবে। সালমান রহমানের ছায়া থেকে বেরতে না পারলে তার পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। এবার জেইল কিলিং এর শিকার চার পরিবারের কেউ মন্ত্রিসভায় নেই। মানে, রাজনীতিতে তাদের জন্য আর প্রাধিকার নেই। চোখে পড়ার মতো বিষয় হচ্ছে, তালুকদার খালেকের স্ত্রীর মন্ত্রী হওয়া। স্বামী মেয়র, বউ উপ-মন্ত্রী! এটি এড়াতে পারলে ভাল হতো। এবারের মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বড় বিস্ময়- প্রথমবার মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েই (তাও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী) তাজুল ইসলামের এলজিআরডিমন্ত্রী হয়ে যাওয়া।

সব শেষে আমার মনে হয়,  ‘ফায়ার’ করতে বেগ পেতে হবে এমন লোকজন এবারের মন্ত্রিসভায় খুব কম। মনে হচ্ছে, ‘পারফরমেন্স’ খারাপ হলেই যে কারোর চাকরি যেকোনও সময় চলে যেতে পারে। শেখ হাসিনা সহকর্মীদের বেশি সুযোগ দেন বলে একটা কথা বাংলাদেশে চালু আছে। এবার মনে হয় তিনি কাউকে বেশি ভুল করার সুযোগ দেবেন না। সে কারণে মন্ত্রী হতে আগ্রহী অপেক্ষাকৃত কম বয়সীরা হতাশ হবেন না। সুযোগ আপনার দুয়ারে কড়া নাড়ছে।